
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে থাকলেও, দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা হবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আগ্রহকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
গত ৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারত আবার পর্যটন ভিসা চালু করায় দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ভিসা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। চলতি বছরের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে বর্তমান সরকার চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। সম্প্রতি চীন সফরে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মংলা বন্দরের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি চীনা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ওপর দিল্লি সতর্ক নজর রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের ও পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সে কারণে সরকার এমন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে, যারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে অশোকা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উদয় চন্দ্রের মতে, বাংলাদেশকে চীনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বলয়ের বাইরে রাখতে চাইলে ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য সুবিধা, সহজ ট্রানজিট ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রদান করা।
বিশ্লেষকদের অভিমত, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।